দণ্ডবর্গের পটভূমি (পাঠ: ৫)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সূত্র ও নীতিগাথা | NCTB BOOK
202

'দণ্ড' অর্থ শাস্তি। অন্যায় বা অপরাধ করলে শাস্তি দেওয়া হয়। শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য অপরাধ করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু শাস্তি অনেক সময় অপরাধের পরিমাণ না কমিয়ে আরও অপরাধ করার ইচ্ছা জাগায়। আবার ভুল করে নিরাপরাধ ব্যক্তি শাস্তি পেলে আরও অন্যায় হয় এবং মনঃকষ্ট বৃদ্ধি পায়। দণ্ড বা শাস্তি প্রদান করে অন্যকে কষ্ট দিলে নিজেরও কষ্ট ভোগ করতে হয়। জীবন সকলের কাছেই প্রিয়। অনেক সময় মৃতুদণ্ড প্রদান করা হয়। মৃত্যুদণ্ড প্রদান একটি চরম সিদ্ধান্ত। যিনি দন্ড প্রদান করেন তিনি বিচারক। তাঁকে জ্ঞানী হতে হয়। জ্ঞানী ব্যক্তি অনেক কিছু বিবেচনা করে শাস্তি বা দণ্ড প্রদান করে থাকেন। দণ্ড বিষয়ে ধর্মপদের দশম অধ্যায়ে চমৎকার বর্ণনা পাওয়া যায়। বুদ্ধের বর্ণিত এই ধর্মপোদেশ 'দণ্ডবর্গ' নামে অভিহিত। এ বর্গে বুদ্ধ দণ্ডের প্রচলিত ব্যাখ্যা প্রদান করেননি। তিনি শাস্তি প্রদানের সময় শাস্তিভোগকারীর কষ্ট ও মনোবেদনা উপলব্ধি করার কথা বলেছেন। শান্তির জন্য শাস্তি প্রদান নয় বরং চিত্তশুদ্ধি আনয়ন করতে পারলে অন্যায় অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। হত্যার বদলে হত্যা, আঘাতের বদলে প্রত্যাঘাত কখনো শান্তি আনতে পারে না। একসময় মহাকারুণিক ভগবান বুদ্ধ জেতবন বিহারে অবস্থান করেন। তখন দুজন ভিক্ষুর মধ্যে উপবেশন ও শয়ন নিয়ে বিরোধ বা মতানৈক্য সৃষ্টি হলে তা নিরসন বা মীমাংসা করার লক্ষ্যে বুদ্ধ দণ্ড বর্গের ভাষিত গাথাগুলো দেশনা করেন। এটাই দণ্ডবর্গের মূল উৎস বা উৎপত্তির কারণ।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...